বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০০৭

আরও একটি কার্ফূ, জনগণ কেন হবে ব্যর্থ রাজনীতির বলী?

আজকে আবার ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরে কার্ফূ জারী করা হয়েছে। রাত আটটা থেকে শুরু হলো অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফূ। পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে এই মুহূর্তে আমার চারপাশের এলাকায়। বাজছে প্রায় সাড়ে দশটা। অস্ত্রসজ্জিত সেনাসদস্যদের চার-পাঁচটি গাড়ি সাইরেন বাজিয় আসাদ এভিনিউ দিয়ে চলে গেল কিছুক্ষণ আগে। পিছনে র্যবের গাড়ি ও সাদা গাড়ি ছিল। মোহাম্মদপুর পোস্ট অফিসের সামনে সেনাবহরের গাড়িগুলো থামলো। পথচারীকে ধাওয়া করলো গাড়ি থেকে নেমে একজন সেনাসদস্য। সে দৌড়ে প্রাণপণে ইকবাল রোডের ভেতরে চলে যেতে দেখলাম। মহিলা যাত্রী নিয়ে একটি রিক্সাকেও খুব দ্রুত সেনাবাহিনীর গাড়ির সাইরেন শুনে ইকবাল রোডের ভিতরে ঢুকলো। ওরা চলে যাবার পর রিকশাওয়ালা আসাদ এভিনিউ দিয়ে টাউন হলের দিকে আবার চললো। 

সন্ধ্যার পর থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। ভৈরবে আম্মার সাথে স্বাভাবিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছি না। শত চেষ্টা করেও তার গ্রামীণফোনে লাইন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মনে হচ্ছে প্রিয় বাংলাদেশ রসাতলে গেল। একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রত্যাশিত ঘটনায় রূপ নেয়াকে প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলো সরকার। বাসায় একমাত্র বিটিটিবির টেলিফোন দিয়ে পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করতে সমর্থ হচ্ছি। আজকের সূর্যাস্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি অনাকাংক্ষিত ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে রইলো। জানি ভবিষ্যতে কোন দিনটির সূর্যোদয় বাংলাদেশের মানুষের জন্য শুভক্ষণ বয়ে আনবে! পরম রক্ষাকর্তা আমাদেরকে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে সুন্দর, শান্তিময় বাংলাদেশ উপহার দিন -এই কামনা করি।