বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬

ঈদের শপিং ভাবনা

ঈদ কাছে আসলে মনের গহীনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সবার প্রথমে যে জিনিসটির কথা মাথায় আসে তা হলো শপিং। একটা তাগিদ অনুভূত হয় কবে কিনবো পছন্দের পোশাকটি, কোথা থেকে কিনবো ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্তু দ্ররিদ্রপীড়িত বাংলাদেশে এখনও যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাদের ঈদ তো আর জমকালো হয় না। কোনমতে একটি পিরানের (পোশাকের) ব্যবস্থা হলেই মহাখুশি। সত্যি তারা অল্পতেই তুষ্ট। যত জ্বালা মধ্যবিত্তদের। সাধ আর সাধ্যির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটাতে যেন তাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। চাই, চাই আরও চাই। সে চাওয়ার যেন শেষ নেই!

দিনান্তে বাসার কাছের শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কে ঢুঁ মেরে আসলাম। বিক্রেতারা পোশাকের; পোশাক শুধু বলি কেন, একজন মানুষকে ঈদের বিশেষ দিনে সুন্দর করে সাজাতে যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুর বাহারী পসরা সাজিয়ে তৈরী। বিশাল বিশাল পোস্টার, বিলবোর্ডে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টার কমতি নেই। ঈদুল ফিতরই তো হলো এদেশের সবচেয়ে বড় উৎসব। ফ্যাশন হাউসগুলো সারা বছর যত বিক্রি করে তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই হয়ে থাকে এই ঈদকে কেন্দ্র করে। এই দৃশ্যপট বাংলাদেশে আদতেই আমার জন্মের আগে এমন ছিল না বলেই শুনে থাকি বাবার ও আংকেলদের মুখে। যতদূর শুনেছি এরশাদ সরকার যখন দুই ঈদে বোনাস প্রথম চালু করলো সেই থেকেই মানুষের উৎসবে কেনাকাটার অভ্যাস বদলে যেতে শুরু করলো। কালের পরিক্রমায় সেই ধারাতেই এখন সরকার তো এ বছর থেকে নববর্ষের উৎসব পহেলা বৈশাখেও বোনাস দেওয়া শুরু করেছে। লাভ হয়েছে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের, তাদের মার্কেটিং কার্যক্রমে হয়েছে নতুন গতিসঞ্চার।