সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৬

একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পোস্ট

স্বাধীন বাংলাদেশে আমার জীবনকালে দেশটির রাজনৈতিক হালচাল অনুধাবন করে বিশ্লেষণ করা দুঃসাধ্য না হলেও কঠিন ব্যাপার বৈকি। জন্মপরবর্তী সময়কালের বেশির ভাগটা গিয়েছে দুটি প্রধান দলের ক্ষমতার পালাবদলের নাটকীয়তা আর মোটামুটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। আগেই বলে রাখছি আমি তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে পক্ষপাতিত্বতা থেকে মুক্ত থাকতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি, মাতৃভূমি এবং আমার অস্তিত্বের অংশ। আমার জন্মদাত্রী মাকে আমি যেমন ভালবাসি, ঠিক তেমনি ভালবাসি এই ভূখণ্ডটিকে। শুধু তাই নয় সমানভাবে ভালবাসি আমার সকল দেশপ্রেমিক দেশবাসীকে। ধরা যাক জন্মদাত্রী মা যদি কালো কুৎসিত হোক আর বোবা, অন্ধ হোক; মাকে তো আর ফেলে দেয়া যায় না। মা শুধু মা-ই। আমার কাছে দেশটা অনেকাংশে তাই।

ভোটার হলাম তো সেদিনের ঘটনা। ১৮+ ক্রস করার পরপরই সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্বাচন কমিশনের প্রজেক্টের মাধ্যমে ভোটার হলাম। ইতোমধ্যে দুটো জেনারেল ইলেকশন গেল। প্রথমটায় জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করলাম। গলা উচিয়ে যত জোরে বলছি অধিকার প্রয়োগ করলাম, বাস্তবে তার প্রভাব অতটা না। সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যাবার কোন মানে খুঁজে পেলাম না। কারণ আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রধান প্রতিদ্বন্দীর কাছে বাকিরা ধারে কাছেও নাই। চিন্তা করে দেখলাম কে সিটটা নিবে সেটা স্পষ্টভাবে অনুমেয় হয়ে গেছে। শক্ত প্রতিদন্দী যেহেতু নেই তাই আমার একটি ব্যালটে কোন গুণগত পরিবর্তন আসবে না। তাই ভোট দিতে গেলাম না সময়, শক্তি খরচ করে। কিন্তু দেশপ্রেমের দায়িত্ববোধ ক্রমাগত পীড়া দিতে থাকল মনে শুধু এই কারণে যে, কেবল পলিটিক্যাল সিস্টেমের সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়হীনতা, আস্থার প্রকট ঘাটতি ও সর্বোপরি সহনশীলতার অভাবে বিশাল অংক ড়ড় নির্বাচন হয়ে যায় আনুষ্ঠানিকতামাত্র।

আমি প্রধান দুটো রাজনৈতিক দলের নামগুলো পর্যন্ত উহ্য রেখেছি। এক সময় ভাবতাম এ দেশের রাজনীতি নোংরা হয়ে গেছে। পলিটিক্স করে লাইফটাকে দোযখ বানাতে যেওনা। আমি মানি কাঁদা ছোঁড়াছোঁড়ির রাজনীতি তো একদিনে হয় নি। এটা বদলাতে সময় লাগবে আর কত সময় সেটার পুরোটায় নির্ভর করছে জনগণ আর পলিটিসিয়ানদের উপর।

আমার জীবদ্দশায় দেখা রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমা মেরে নিরপরাধ হতে পারে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের জীবন সংহার। এ কাজ কারা করেছে বিতর্কিত সেই টপিক নিয়ে পৃথক একটি পোস্ট দেয়া লাগবে।

সরকারের শাসনব্যবস্থায় আমার সবচেয়ে অপ্রিয় ক্ষেত্রটা হলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড যা কিনা বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার ইত্যাদি। এসব কাজ একটা সভ্য দেশের ইমেজকে বাজেভাবে তুলে ধরে।

তত্বাবধায়ক সরকার দেশে জরুরী অবস্থা দিল। কারণ কি? রাজনীতিবিদদের মাঝে ঐক্যে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছেনা বিধায় সংঘাত অনিবার্য। জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রযন্ত্র সচল রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন জরুরী অবস্থা, কার্ফুতে জনজীবন মলিন। মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে সংবিধান স্থগিত হয়েছিল কিনা মনে নেই। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা কতটা অসভ্য পরিচয়টা দেখিয়েছি রাজনীতির মাঠে।

এবার আসি অত্যন্ত স্পর্শকাতর যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি ছিল। তারা সেভাবেই আগাচ্ছে। বিচারকার্যক্রম নিয়ে তর্ক আছে। যুদ্ধাপরাধ ১৯৭১ সালে এ দেশের মাটিতে অনেক হয়েছে। সেগুলোর ফয়সালা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ট্রান্সপারেন্ট ট্রায়াল তার থেকে বেশি জরুরী। আমি যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে অভিজ্ঞ নই বলে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

পোস্ট আর দীর্ঘায়িত করবো না। মজার রাজনৈতিক ঘটনা দিয়েই শেষ। এই তো কয়েক মাস আগে বিএনপির এক রাজনীতিবিদকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখোঁজি হলো। নাহ্ কোথাও তো নেই। বিএনপি দোষারোপ করতে লাগল সরকার পক্ষকে। অবশেষে সেই নেতাকে পাওয়া গেল ভারতের আসামে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন