সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৬

ভালোবাসার সাত রং

ভালোবাসা কি রংধনুর মত যে তাতে সাত রঙের প্রলেপ থাকবে? প্রশ্নটা মনে জাগা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভালোবাসা তো বলে কয়ে আসে না যেমন ধরুন রংধনু। পুবাকাশে বৃষ্টিশেষে তাকালে ভাগ্যে জোটলে রংধনুর দেখা মিললেও মিলতে পারে।

আমি একটু অন্যভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। পৃথিবীতে হাজারো ভাষা, হাজারো জাতি, উপজাতি সব মিলিয়ে ৭০০ কোটি মানব-মানবীর সংস্কৃতির যে শাখাপ্রশাখা তার সংখ্যার কোন ইয়ত্তা নেই। আমরা বাঙালিরা ভালোবাসা প্রকাশে লাল রংটাকেই প্রাধান্য দিই। এই যেমন বাঙালি বধূর লাল শাড়িতে বিয়ের চলনটা তো একদিনে হয় নি। এটা ভালোবাসা প্রকাশে আমাদের কালচারের অনুষঙ্গ। নর্থ আমেরিকানদের কথায় ভাবা যাক। বিয়েতে সাদা পোশাক ওদের ভালোবাসার অংশ।

রংয়ে কি আসে যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের দেহবর্ণ নিটোল কালো বলে কি ওরা কি সমগোত্রীয়দের ভালোবাসে না? অবশ্যই বাসে। ভালোবাসা কি আদৌ গাত্রবর্ণের উপর প্রভাব ফেলে? সহজ প্রশ্ন, কিন্তু সরাসরি উত্তর আমার কাছে নেই। সামাজিকীকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত বর্ণবিভাজনের উপর ব্যক্তির মূল্যবোধ নির্ধারণ করে ভালোবাসায় রঙ বিবেচনা। তবুও বিশ্ব সংস্কৃতি এ যুগে শুভ্র বর্ণের মানুষের প্রতি কেন জানি দুর্বল।

ভালোবাসা রঙিন, তবে রংধুর সাতটি রঙে ভালোবাসা বাঁধা নয়। যেমনটি বলছিলাম ভালোবাসার একটি সামাজিক পরিণতি বিয়ের পোশাকের বেলায়। আমরা হয়তো সারা পৃথিবী খুঁজলে পেয়ে যাবো সেই সাতটি পৃথক রঙের কালচার যেখানে নতুন বধূদের বরণ করে নেয়া হয় সাতটি পৃথক রঙের পোশাকে। কিন্তু বাহ্যিক রঙের বাহার থেকে যদি ভালোবাসা থেকে উৎসারিত মনের রংগুলো কল্পনা করি যেগুলো সময়ের সমান্তরালে নানান রঙের আল্পনা এঁকে যাচ্ছে সম্পর্কের মাঝে। চোখ বন্ধ করুন। ভাবুন প্রিয় একজন মানুষের কথা। যার সাথে প্রথম পরিচয় থেকে এই মূহুর্ত পর্যন্ত যত স্মৃতি মনে পড়ে সবগুলোকে সেলুলোয়েডে (চলচ্চিত্র) বন্দি করুন। দেখবেন কত অজস্র রঙ মিশে আছে ভালোবাসায়। ভালোবাসা যেন একটি রঙিন ফুলের বাগান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন