মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১৬

দিনলিপি: সৃজনশীনতার রকমফের ও জীবনের অংক

সারাদিনের শেষে রাতে ঘুমোতে যাবার আগে মুঠোফোনে যখন ব্লগে কিছু পোস্ট দিব বলে ভাবি তখন রাজ্যের দুশ্চিন্তা মাথায় এসে বসে। সারাদিনটা ইশশ বিফলে গেল। একটি চাপ্টারও শেষ করা হলো না। সামাজিকতা, সামাজিকতা...  ওফফ ভাল্লাগে না। কেন যে মোবাইল ফোনটা আবিস্কার হলো! আমি কোথায় আছি, কখন আসব, কোথায় যাব সবকিছু বন্ধু কি পরিবার কারোর কাছেই লুকোবার সুযোগ নেই।

যাই হোক আমি ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গিয়েছিলাম। এটা হতেই পারে। একটি ছেলেকে আকাশের গর্জন সম্পর্কে রচনা লিখতে দেয়া হলো। এখন টেকনিক্যাল বা সায়েন্টিফিক প্রসঙ্গ ছাড়া বহু অভিনব কল্পনার আশ্রয় সে নিতে পারে। ওখানেই তো তার সৃজনশীল চিন্তাশক্তির পরিচয় মিলবে যা করবে ওকে অন্যদের থেকে আলাদা।

আমি যখন হাই স্কুলে পড়তাম তখন সাময়িক, ষান্মাসিক, বার্ষিক যে পরীক্ষাই হোক না কেন বাংলা পরীক্ষার রচনা লিখন প্রশ্নের উত্তরে দেয়া অপশনগুলো থেকে সবসময় বেছে নিতাম সেই টপিকটা যেটাতে আমি নিজের মত করে মনের ভাষায় বলা যায় ছোটখাট সাহিত্যচর্চা করা যায় আর কি। একটি জ্যোৎসাস্নাত রাতে নৌকাভ্রমণ যদিও করার সুযোগ হয় নাই, ভবিষ্যতে করা হবে বলেও মনে হয় না। গ্রাম, মফস্বল শহরের সাথে রাজধানীর আত্বিক দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেনই বা গ্রামের ধূলিপথ মাড়াবো। কথা বা কারণ এটা নয়। মূলত রিভার্স কালচার শক্ যেটা ইদানিং বেশিই ফিল করি নব্বইয়ের দিনগুলো যেখানে কেটেছিল।

আবারো মূল লেখা থেকে ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা। এই যে একজন লেখক লিখতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছেন এটা নতুন কিছু নয়। অনেক বড় বড় লেখক কোন একটি বিষয়ে লিখতে গিয়ে লেখা শুরু করে নিজের লেখার উপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছিলেন। শুধু তাই নয় শুরুতে হয়তো ভেবেছিলেন উপসংহার বা যবনিকা পাত ঘটাবেন প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ দিয়ে, কিন্তু না করেছেন অভাবনীয় মিলন।

এবার পূর্বপ্রসঙ্গে আসি। আমি হাই স্কুলে ছিলাম রোল দুই। যার রোল ছিল এক সে যথেষ্ট প্রতিভাবান ও মেধাবী ছিল। সে খুব মজা পেত আমার রচনা লিখার টপিক চয়েজের প্রবণতা দেখে। যাই হোক সে বুয়েট থেকে পাশ করে দেশের একটি অন্যতম পাওয়ার প্লান্টে জব করছে। বন্ধুমহলে সেই প্রথম ছয় ডিজিটের সেলারী পাচ্ছে। খুবই বিশাল অর্জন। আমার পরবর্তী মন্তব্যটি কাউকে আঘাত কিংবা নিরুৎসাহিত করার জন্য নয়। আমার আরও বেশ কিছু ফ্রেন্ড আছে যারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউএন মিশন শেষ করে ফিরেও এসেছে, বিয়ে করে বাবা হয়েছে। আফ্রিকার যেসব দেশে ওরা কাজ করেছে খুবই দুর্ধর্ষ ও প্রতি প্রহরে মৃত্যুর সমূহ সম্ভাবনা মাথায় নিয়েই কাজ করেছে। ওরা যদি মেজর র‍্যাংকে পদোন্নতি পেয়ে ফ্ল্যাট, গাড়ি কেনে তবে তা খুবই স্বাভাবিক। জীবন বাজি রেখে ওরা দেশ বাঁচাবে। আমার এতকিছু বলার মানে হলো জীবন টাকার অংকে চলে না। আপনার কর্মপরিধি বলে দেবে আপনার কত টাকা দরকার, শুধু দরকার একটি ওয়েল প্লানড বাজেট ও ইমপ্লিমেন্টেশন। শেষ কথা হলোদধদ জমানা পাল্টে গিয়েছে। মানুষ এখন আর কেবল একটি সোর্স যেমন সেলারীর উপর নির্ভর করে না। পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্টগুলো উন্নত দেশগুলোর অনুকরণে করা হচ্ছে। গোল্ড ইজ রিমেইন্ড এজ এ সেইফ মিডিয়াম অব স্টোর অব ভ্যালু। মূল্যস্ফীতি ৫/৬ যদি থাকে টাকা ০ রিটার্ণে ব্যাংকে ডিপোজিট করে কি লাভ?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন