শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০০৮

রাজধানী ঢাকা ৪০০ বছর পূর্তিতে আহেন মজি ফুর্তিতে

রাজধানী ঢাকা ৪০০ বছর পূর্তিতে
আহেন মজি ফুর্তিতে
-এই শ্লোগান নিয়ে রাজধানী ঢাকা শহরের ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ বছরব্যাপী উৎসব উদযাপনের উদ্বোধন করা হলো। ২০০৮ থেকে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ জুড়ে চলবে এই আনন্দ আয়োজন।

ঢাকার রাজধানী হিসেবে ৪০০ বছর পূর্তি উদযাপনের বছর হবে ২০০৮ নাকি ২০১০ তা নিয়ে বিজ্ঞজনের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন এই ২০০৮ সালেই ঢাকা ৪০০ তে পা দিল। আবার কেউ বলেন না ২০১০ সালে ৪০০ বছর পূর্ণ হবে। তাই মতানৈক্যের উর্দ্ধে থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের ঢাকা নগরীর বাসিন্দাদের উৎসবের আমেজে মাতিয়ে রাখতে সরকার একটানা তিন বৎসর আনন্দ উৎসব পালনের ঘোষণা দিল।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ শুক্রবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ পায়রা মুক্ত করে আর ৪০০ টি বেলুন আকাশে ছেড়ে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করেন প্রায় সাড়ে ৪ টায়। বেলুনের সংখ্যা ৪০০ হবে কিনা কে জানে? কয়েকজন ভিভিআইপি অতিথি প্রধান উপদেষ্টা সভাস্থলে আসার আগেই বেলুন হাত থেকে ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। পরে মাইকে কাউকে বেলুন আগে ভাগে ছেড়ে না দেয়ার জন্য অনুরোধ পর্যন্ত জানানো হয়েছিল।

আজ সংসদ ভবনের দক্ষিণের খোলা চত্বর সবার জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল বহুদিন পর। মনে পড়ে তত্বাবধায়ক সরকার আসার আগে বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে সর্বশেষ সংসদের টানেল দিয়ে হেঁটে ঘুরেছিলাম। তারপর গত দুই বছর তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে সংসদ এলাকা ছিল নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা আর ভবনের সামনের লনে পর্যন্ত ঢোকা বন্ধ করা হয়েছিল। তাই আজ দেখলাম মানুষ স্বানন্দে ছুটির দিনের মৃদু শীতের বিকেলটা কাটাতে এসেছিল সংসদ চত্বরে।

প্রধান উপদেষ্টা ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করলেন আজকের অনুষ্ঠানেই। শেরে বাংলা নগরের আশপাশের এলাকা থেকে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এসেছিল ইউনিফর্ম পড়ে।

সন্ধ্যায় ছিল রং বেরংয়ের আতশবাজির খেলা। দৃষ্টিনন্দন ফায়ারওয়ার্কস সংসদ ভবনের সামনের দিগন্তজোড়া আকাশে দারুণ পুলকিত আমেজের সৃষ্টি করেছিল। রাজধানীবাসী অনেকদিন পর এমন ব্যতিক্রমী আনন্দের স্বাদ পেল। বাচ্চা, শিশু, কিশোর, যুবক, প্রৌড় সব বয়সী মানুষের এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল সংসদ ভবন দক্ষিন প্লাজা।

পহেলা বৈশাখ, ঈদ উৎসব প্রতি বছরই ফিরে ফিরে আসে। রাজধানী ঢাকার শতবর্ষ পূর্তি এলো সুবর্ণ আনন্দে সুযোগ নিয়ে।

৪০০ বছর পূর্তি দেখে মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে; কেমন ছিল ১০০ বছর আগের ঢাকা, কেমন হবে আগামী ১০০ বছর পরের ঢাকা? ঢাকার ৫০০ বছর পূর্তিতে কি আমি বেঁচে থাকবো? সন্ধ্যার পর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত সকল দর্শককে অনেক আনন্দ দিয়েছে।

আজকের মজার ঘটনা হিসেবে যেটি মনে পড়ছে তা হলো- অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত, তারপর গীতা পাঠ, তারপর বাইবেল পাঠ আর সবশেষে পাঠ করা হয় ত্রিপিটক। এজন্য প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগে যায়। অনুষ্ঠানে সংসদের সবুজ ঘাসের চত্বরে যারা বসেছিল তাদের বেশিরভাগ ছিল স্কুল, কলেজের ছাত্ররা। তারা অনেকক্ষণ ধরে অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য বসে আছে, অনুষ্ঠান শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় তারা কিছুটা বিরক্ত ছিল। তাই দেখা গেল যখন গুরু ত্রিপিটক পাঠ শুরু করলেন তখন অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা। ত্রিপিটক পাঠের উচ্চারণ এমন লাগছিল যে ওদের হাসি আর থামায় কে? সবাই দেখি হাসছে। স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা স্টেজে বসাকালে এমন হাসির রোল তিনিও বোধ হয় টের পেয়েছেন।

রাত নটায় শেষ হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবার জন্য উন্মুক্ত এই উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান চলবে দুদিন, শুক্র-শনিবার। আমার মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে বেশকিছু ছবি তুলেছি সেই মূহুর্তগুলোর। সবার সাথে শেয়ার করার জন্য কিছু ছবি আপলোড করলাম।