শনিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮

স্বপ্নবৃক্ষ

স্বপ্নবৃক্ষ

একটি 🌲 যার পাতায় পাতায় স্বপ্ন
রোদেলা দুপুরে সোনালী আলোয় কল্পতরু।
রাতের জোছনায় নির্ঘুম রজনীতে বুনিত
স্বপ্নেরা পাখা মেলে সাদা পরীর বেশে।

অনেক রকম মানুষের হরেক রকম স্বপ্ন,
লাল-নীল-সবুজ কিংবা হলুদ; হোক না কেউ বর্ণান্ধ।
স্বপ্নেরা বাঁধে বাসা ঝাঁকে ঝাঁকে আপন গৃহডোরে,
সময় সেতো স্মৃতির সেলুলয়েডে রূপালী উপাখ্যান।

পথিকের কি আসে যায় যদি,
স্বপ্নের দেয়াল কখনও হয় অম্লমধুর?
ওরে! ছিদ্রান্বেষীর দল, স্বপ্ন বাড়ি নেবে অদৃষ্ট;
থাকুক পেছনে কায়ক্লেশে নিন্দুকের মূল‍্যহীন অনুভূতি।

স্বপ্ন যখন ময়ূরপেখম মেলে,
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাকড়সার জাল হয়ে যায় সারা।
এক পশলা বৃষ্টি শেষে স্বপ্নবৃক্ষের পাতারা দ‍্যুতি মেলে
বিন্দু বিন্দু জলকণায় ভর করে সপ্তবর্ণের ঝলকানি।

স্বপ্নে বাঁচে মানুষ, স্বপ্ন বাঁচায় আগামী,
আর শতকোটি স্বপ্নেরা বাঁচায় ধরিত্রী;
স্বপ্নবৃক্ষ, সে তো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রকে ঘিরে
মানসপটের স্বপ্নের ষড়‌ঋতু, স্বপ্নের সুতিকাগার।



শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

উচ্চশিক্ষার দৈন‌্যদশার পেছনে ১২ বছরের দুর্বল স্কুলিং দায়ী নয় কি?



আমি যখন দেখি দেশের শ‌্রেষ্ঠ‌ প্রাইভেট বিশ্ববিদ‌্যালয়ে পড়ে একজন মাস্টার্স পাশ করা ছেলে তার সিভিতে শুদ্ধভাবে ইংরেজী বাক‌্য লিখতে পারে না, তখন স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে ডিগ্রী দেয় কিভাবে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অকাল মৃত‌্যু ও একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ

আজ ১৫ আগস্ট, ২০১৮। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সদ‌্য স্বাধীন একটি দেশে রাস্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে হীনস্বার্থ চরিতার্থ প্রয়াস পেয়েছিল এদেশেরই একদল সেনা অফিসার। তাদের কেউ কেউ ছিল স্বঘোষিত খুনি। রাজনৈতিক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ হয়তোবা গণতন্ত্রের চর্চা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারে নি। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেশটাকে অর্থনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সুশাসনের দিক থেকে ভীষণ চ‌্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছিল।

রাজনৈতিক বিভাজনই কি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দু’পদের মধ‌্যে পালাবদলকারী রাষ্ট্রনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত‌্যার পেছনে মোটিভ হয়ে ছিল নয় কি? বাংলাদেশের আপামর জনতার কাছে যে মহান ব‌্যক্তির নেতৃত্ব আগ্নেয়গিরির লাভার চেয়েও উত্তাপ ছড়িয়ে জীবন বাজি রেখে একটি আপন মাতৃভূমির তরে পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনীর বিপক্ষে লড়ার সাহস যুগিয়েছে তাকে হত‌্যা এই জাতির স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া সমান কথা।

ফিলিস্তিন প্রায় পৌনে এক শতক সংগ্ৰাম করে যে স্বাধীনতা আনতে পারেনি বঙ্গবন্ধু বাঙালির জন্য স্বাধীন আবাসভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন।

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার রাজপথের অচলাবস্থা

শহরটা বড্ড বেশি জনবহুল হয়ে পড়েছে। রাস্তায় মোটরযানের গড় গতি যেখানে পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে সেখানে সুযোগ পেলেই সময় বাঁচাতে বাস ড্রাইভাররা হয়ে পড়ছে বেপরোয়া। ট্রিপ বাড়াতে পথচারী পিষে ফেলতেও বিবেকে বাঁধছে না।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজধানী ঢাকা  পৃথিবীর দশম বৃহত্তম সিটির খ্যাতি পেয়েছে বটে। কিন্তু যুগের ব্যবধানে ঢাকা সিটি দুইটি প্রশাসনিক পৃথক কর্পোরেশনে রূপান্তর ছাড়া হরিজন্টাল এক্সপেনশন বা আনুভূমিক সম্প্রসারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়েছে কি? হচ্ছে তবে তা র‍্যাপিড গতিতে যদি হতো স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়া যেত হাতিরঝিলের মেগা প্রকল্পের মত।

খবরে প্রকাশিত রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর স্মৃতি মানুষ  হয়তোবা কালের চক্রে অচিরেই ভুলে যাবে। যেমন মানুষের স্মৃতিপট থেকে হারিয়ে গেছে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি, তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাওয়া কিংবা বিচার বহির্ভূত গুম-খুনের নেপথ্যের প্রতিবাদী কন্ঠস্বরগুলো। সন্তান যারা হারিয়েছেন তারা তো কোনদিন ভুলতে পারবেন না স্বজন হারানোর বেদনা। পৃথিবীর কোন ক্ষতিপূরণ‌ই স্বান্তনার জায়গটুকুতে় আমৃত্যু আক্ষেপকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

রাষ্ট্র ও সরকার দুটো পৃথক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের কাছেই জনতা রাজপথে নিরাপদ সড়কে চলাচলের অধিকার চাইবে, খুব স্বাভাবিক। দায়িত্ব বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না। এই নিরাপত্তাটুকু নিশ্চিতের কাজ সরকারের। এখন প্রশ্ন চলে আসে সরকার কতটা দায়িত্বশীল? আদতে সরকার যোগ‍্যতা রাখে দেশের পরিবহন ব‍্যবস্থার শৃঙ্খলা বিধান করতে?

আজ ঢাকার রাজপথে স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা কেন? রাস্তায় ওদের সরব উপস্থিতি রাষ্ট্রযন্ত্রে অশনিসংকেতের ইঙ্গিত বহন করে না তো? আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে ১৮ বছরের নিচের সেই ছেলেরা রোড ব্লক করে বিচার চাইতে রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে; লিগ‍্যাল এজ এখনো পেরোয় নি যারা! দেশটা কি মগের মুল্লুক?

হরতালে পিকেটিং ছিল সরকারকে কুপোকাত করার একটি অভিনব কৌশল। ওগুলো দেখতাম রাজনৈতিক দাবিতে নির্দিষ্ট কিছু দলের ব‍্যানারে। কিন্তু এবারকার ছাত্রদের বিক্ষোভ যেন স্বতঃস্ফূর্ত; না বিরোধীদলীয়, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মোদের একটাই দাবি, "আমরা জনগণের জন্য নিরাপদ সড়ক চাই"।

সূর্যোদয় নতুন প্রজন্মের জন্য পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা নিয়ে আসুক। ঢাকাকে বাঁচাতে হবে। চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজধানীকে বাসযোগ্য অবস্থায় নিয়ে আসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি নগরবাসীর। আসুন বিল্ডিং কোড (ইমারত নির্মাণ বিধিমালা) অনুসরণ করে বাড়ি বানাই, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় গাড়ি ব‍্যবহার করা থেকে বিরত থাকি

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১৮

মাস্টার্স ডিগ্রির শেষ দিনটি চলে এলো

আইইউবি জীবনটা যতটা না দীর্ঘস্থায়ী হ‌ওয়ার কথা ছিল তার চেয়েও বেশি সময় এখানে পার করেছি। এমবিএ জীবনের মাঝপথে এসে ক‍্যাম্পাসের সেন্টার কোর্টে বসে দিন, মাস গুণতাম আর ভাবতাম কবে আসবে সে বিদায় ক্ষণ।
সুবীর ও আমি; দুজনেই একই ব‌্যাচে বিবিএ শুরু এবং একসাথে এমবিএ শেষ।

তারুণ্যকে হারাতে মন চায় না। তবু সময় জীবনকে অদেখা ভবিষ্যতের সীমান্তে নিরন্তর এগিয়ে নেয়। ভার্সিটি লাইফে একাডেমিক অর্জনের চেয়ে মুখ্য যে জিনিসটি আমাকে তৃপ্ত করেছে তা ছিল বন্ধুদের ভালবাসা। ভালো থেকো আইইউবি, আর বন্ধুরা ছোট্ট গ্লোবাল ভিলেজের যেখানেই থাকো। আইইউবির সাফল্য উজ্জ্বল থাকুক!

বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮

রবীন্দ্রনাথের ফুলে ফুলে ঢোলে ঢোলে গানটির ফ্রেঞ্চ সংস্করণ





ফ্রেঞ্চ গানটি এক কথায় চমৎকার, অসাধারণ, অপূর্ব। অর্থ বুঝতে হবে না, বাংলায় সুরারোপিত ফুলে ফুলে গানটির ছন্দের তালে তালে মনে মনে গেয়ে যাবেন।



একচুয়ালি ফ্রেঞ্চ গানটি ফ্রান্সের একটি পুরনো ফোক গান বা লোকসঙ্গীত। রবীন্দ্রনাথ এতই প্রতিভাধর ছিলেন যে, তিনি বাংলা ভাষায় ফুলে ফুলে গানটি লিখে সুরটি উপমহাদেশে নিয়ে আসলেন। কত ইন্টারেস্টিং তাই না!



রবীন্দ্রনাথ অন‌্যান‌্য গানের মধ‌্যে “কতবারো ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া” গানটিও বিদেশী গানের সুরে সুরারোপিত। বাংলা গানগুলোতে ঐসব গানের সুরগুলো এতো ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে যে, কে বলবে ওগুলোর ভিন্ন ভাষায়ও জ্ঞাতি ভাই আছে!

শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮

প্রযুক্তির পরশে মানব-মানবীর সম্পর্ক

পাবলিক ডোমেইনে চাইলেই সবকিছু লিখা যায় না। আর আমি আনা ফ্রাংকের ডায়েরী টাইপ কিছু লিখতে আগ্ৰহী ন‌ই। কারণ আমার অত পপুলার হবার ইচ্ছা তো নেই, সম্ভাবনাও নেই।

টেড টকগুলো মজার উপাদেয় খাদ্য যারা এন্টারটেইনমেন্ট জগতের আজগুবি গল্পের চেয়ে রিয়েল লাইফ স্টোরি শুনতে বেশি ইন্টারেস্টেড। ইভোল‍্যুশনারি বায়োলজিস্ট ড. হেলেন ফিশারের একটি ইন্টারেস্টিং উক্তি বলি। তিনি বলছেন সবাই বলে পুরুষরাই কেবল ইনফাইডিলিটি বা পরকিয়ায় জড়ায়। হেলেন ফিশারের জবাব হলো না শুধু পুরুষরা না, নারীরাও সমানভাবে জড়ায় বা পরকিয়ার জন্য দায়ী। কারণ সিম্পল। যে পুরুষরা পরকিয়া করে, তারা কাদের সাথে করছে? অবশ‍্য‌ই নারীদের সাথে। অত‌এব ইনফাইডিলিটির দায় উভয় জেন্ডারের উপর বর্তায়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কথাটি সমানভাবে প্রযোজ্য। বিয়ের পর বহু নারী ইনফাইডিলিটির কাঁটাতারের বেড়ায় নিজেদের রক্তাক্ত করছে। সাথে যোগ দিচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের বিবাহিত-অবিবাহিত পুরুষ পঙ্গপালের দল।

ফেসবুক তথা অন্যান্য সোশ‍্যাল মিডিয়াকে ওরা মৌলিক জ্ঞান অর্থাৎ ভার্চুয়াল জগতে রিলেশনশিপ, ইনফাইডিলিটি রুলসের অভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ করে নিচ্ছে। ডিজিটাল যুগে রাতের আঁধারে স্পাউসকে ঘুমন্ত রেখে ইন্টারনেটের বিটস আর বাইটসে অন্য তৃতীয় ব‍্যক্তির সাথে রোমান্টিক সম্পর্কের স্বপ্নজাল বুনা দেহকে হাজার টুকরো করার চেয়েও বেশি পীড়াদায়ক।

ইন্টারনেটপূর্ব জমানায় রিলেশনশিপের ওয়েল এস্টাবলিস্ট রুলস ছিল সুনির্দিষ্ট। যেগুলো হাজার বছর ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পরিবাহিত হয়েছে। এই যেমন ধরুন রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী। ওখানেও রুলসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় যার সাথে এ যুগের মিল আছে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগতে বিচরণের জন্য হিউম্যান ব্রেইন কতটুকু পরিপক্ব তা ভাববার বিষয়। নতুন নিয়ম তৈরি করার সময় এখন। কারণ সাইকোলজিস্টরা বলছেন এ যুগে ব্রেকআপ কার্যকর ব্রেকআপ না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি এক্সকে ফেসবুকে ব্রেকআপ করছেন।

ডিজিটাল যুগে রোমান্টিকতা

ফেসবুক অধুনা কালে রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইনট্রোডিউসিং মাধ‍্যম হিসেবে কাজ করছে। এটা ট্র‍্যাডিশনাল ডেটিংয়ের বিকল্প নয়।

নারী-পুরুষ সম্পর্ক দেশ ও কাল ভেদে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ইউরোপিয়ান প্রেম আর সাউথ এশিয়ান প্রেম এক নয়। তবে মজার ব্যাপার ব্রেন সিস্টেম সব জায়গায় সব সমাজে এক‌ই কায়দায় ভালবাসার সুরে আন্দোলিত হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক প্রজননক্ষম নরের কাছে নারীর অবস্থান তৈরি করুন। আদিম ব্রেন সিস্টেম একশনে চলে আসবে। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ ভলান্টারিলি হবে। এখন মানুষ কেন আচরণগত তফাৎ দেখায়? কারণ একটাই। খোদা তায়ালা মানুষকে বানরের চেয়ে বুদ্ধিমান করে পাঠিয়েছেন।

গত দশ-বারো বছরে মানুষের ইন্টারনেট নির্ভর ইন্টার‍্যাকশনে অনেক নতুন শব্দের যোগ হয়েছে। একটি কোম্পানি ফেসবুক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এলগরিদমের মারপ্যাঁচে কোটি কোটি মানুষের পিপল টাইম রিপ্লেস করে ফেলছে স্ক্রিন টাইম দিয়ে। এখানে বিবেচ‍্য বিষয় কোয়ালিটি সময় কি পার করছে স্ক্রিন টাইমে নাকি ডোপামিন ড্রাইভেন অর্থহীন সময় পার? বলাই বাহুল্য ফেসবুকের প্রতিটি ইন্টার‍্যাকশনের বিপরীতে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটারের স্রোত শরীরে বয়ে চলে। রিসার্চ স্টাডি বলে ফেসবুক ব্যবহার ত‍্যাগ করা ধুমপান ত্যাগ করার চেয়েও কঠিন।

সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮

গগণে খুঁজে ফিরি (কবিতা)

গগণে খুঁজে ফিরি


গগণ পানে চেয়ে আমি কি দেখি?
হাসির ঝিলিক বিলিয়ে আমি কতই না সুখী।

একটি প্লেনের উড়ে চলায় দৃষ্টির চকিত চাহনি,
প্রিয়তম কিংবা তমা আর আসিবে না ফিরে জানি।

উচ্ছল উচ্ছাসে চেতনদ্বন্দের গর্জন উঠে মনে-প্রাণে,
তবু কোন হৃদ-স্পন্দনে ফিরে আসি পুরাতন গৃহের স্থানে?

ভয়? বিশ্বাস? আপেক্ষিকতা? কিছুই যে করি না উপেক্ষা!
নোঙরবিহীন, মস্তুলহীন নৌকোর পথচলাকে প্রভু করো রক্ষা!

শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮

ক্ষণিকের বসন্ত, স্মৃতিপটে জীবন্ত

স্বপ্ন দেখবো না আর তোমার আকাশসীমায়,
ফানুস উড়াবো না রাতে তোমার দৃষ্টিসীমায়,
ক্ষতবিক্ষত হৃদয় থেকে উৎসারিত
বিরহ বাণী বাজছে হয়ে সকরুণ বাঁশি।
রাতের আকাশে চেয়ে থাকবো অপলক নয়নে 
লাল নিয়নসাইনে, মনে পড়বে তোমার কথা, 
দূরত্ব অসহ্য যন্ত্রণা হয়ে নদীর জলে,
শীতের কাঁপুনি হয়ে পীড়া দেবে।
মন চাইবে সপ্তডিঙ্গা ভাসিয়ে ফিরে যায় অতীতে।
আমার বন্ধু তুমি, মন চায় চোখে চোখে রাখি তোমায়,
হয়তোবা সব আশা পূরণ হবার নয়।
কিন্তু একটু বেশি অধিকার খাটিয়ে ফেলি কখনো,
বন্ধুর কাছে যদিওবা সব‌ই শেয়ার করা যায়,
তবে সব আশা নয়।

সোমবার, ৪ জুন, ২০১৮

রুদ্রমন (কবিতা)

রুদ্রমন কবিতাটি পৃথিবীর অর্ধেক অর্থাৎ ৫০% প্রাচুর্য বা অর্থবিত্তের অধিকারী ৮ জন মতান্তরে ৬২ জন ধণাঢ‌্য ব‌্যক্তিবর্গকে উৎসর্গ করে লিখা হয়েছে।

রুদ্রমন

কিনে নেবো জগত, বিলিয়ে দিবো সব
আমিই তো রাজাধিরাজ।
ভেঙ্গে ফেলবো মাকড়সার যত জাল
করুক না কানাকানি পাছে আমার।

আজ যে চেয়ে আছে শত কাজ
ছোঁয়া পেতে ব‌্যস্ত দু’হাত আমার।
সময় যে খুবই কম আজ, কর্মবীর তাকায় 
বিশ্রাম, ভুলেও পড়ে না মনে তাই।


সারমর্ম:

যেহেতু অর্ধেক সম্পদের ডলার স্ট্রিটে ৭০০ কোটি মানুষ বসবাস করে বৈষম‌্যের যাঁতাকলে, তাই বিশ্বের বাকি অর্ধেকের অধিকারী ধণাঢ‌্য হাতেগোনা ব‌্যক্তিবর্গ একদিন স্বপ্ন দেখছে পৃথিবীতে আর্থিক বিভাজন তুলে দিতে। এখানে মাকড়সার জাল বলতে বোঝানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন আর্থিক ব‌্যবস্থাকে যেগুলো রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারকরা, ব‌্যাংকিং ব‌্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কখনও বিজনেজ সাইকেল ও অর্থনীতির বুম-রিসেশন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কবিতাটির দ্বিতীয়াংশে একাউন্টিবিলিটি এবং জাস্টিসের উপর ধণাঢ‌্যদের অনমনীয়তাকে জোর আরোপ করা হয়েছে।

রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

বিস্মিত বুলেট

একটি বুলেট নাকি একটি কবিতা
কোনটি মাথায় করবে প্রবেশ ভাবছি তাহা।
বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যাবে করোটি,
কবিতার ছন্দে ব্যাথা হবে উপশম মস্তিষ্কের।
বুলেট পাড়িয়ে দেবে ঘুম চিরনিদ্রার,
কবিতা দুয়ার দেবে খুলে স্বপ্নলোকের।
বুলেট আনবে ডেকে কান্নার রোল,
কবিতা মনে দেবে আনন্দের হিল্লোল।
বুলেট জন্ম দেবে আরেকটি কলংকিত বিদায়,
কবিতায় উচ্চারিত হবে নব অধিকার আদায়।
বুলেটে কুঁকড়ে শিওরে উঠবে শিশুর প্রাণ,
কবিতায় জানবে চিন্তালোকের অপার জ্ঞান।
বুলেট করবে প্রিয়তমার হৃদয়কে নিঃসঙ্গ-ব্যাথিত,
কবিতা এনে দেবে প্রশান্তির বুননে বাঁচার মহীরুহ।
বুলেটের বিভীষিকাময় অশ্রুর জল,
যাবে হারিয়ে শূন্যতার কৃষ্ণ গহবরে।
কবিতার আমেজ ক্ষণিকের হলেও,
পাঠকের কোমল হৃদয় স্পর্শ করবে।