শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮

প্রযুক্তির পরশে মানব-মানবীর সম্পর্ক

পাবলিক ডোমেইনে চাইলেই সবকিছু লিখা যায় না। আর আমি আনা ফ্রাংকের ডায়েরী টাইপ কিছু লিখতে আগ্ৰহী ন‌ই। কারণ আমার অত পপুলার হবার ইচ্ছা তো নেই, সম্ভাবনাও নেই।

টেড টকগুলো মজার উপাদেয় খাদ্য যারা এন্টারটেইনমেন্ট জগতের আজগুবি গল্পের চেয়ে রিয়েল লাইফ স্টোরি শুনতে বেশি ইন্টারেস্টেড। ইভোল‍্যুশনারি বায়োলজিস্ট ড. হেলেন ফিশারের একটি ইন্টারেস্টিং উক্তি বলি। তিনি বলছেন সবাই বলে পুরুষরাই কেবল ইনফাইডিলিটি বা পরকিয়ায় জড়ায়। হেলেন ফিশারের জবাব হলো না শুধু পুরুষরা না, নারীরাও সমানভাবে জড়ায় বা পরকিয়ার জন্য দায়ী। কারণ সিম্পল। যে পুরুষরা পরকিয়া করে, তারা কাদের সাথে করছে? অবশ‍্য‌ই নারীদের সাথে। অত‌এব ইনফাইডিলিটির দায় উভয় জেন্ডারের উপর বর্তায়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কথাটি সমানভাবে প্রযোজ্য। বিয়ের পর বহু নারী ইনফাইডিলিটির কাঁটাতারের বেড়ায় নিজেদের রক্তাক্ত করছে। সাথে যোগ দিচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের বিবাহিত-অবিবাহিত পুরুষ পঙ্গপালের দল।

ফেসবুক তথা অন্যান্য সোশ‍্যাল মিডিয়াকে ওরা মৌলিক জ্ঞান অর্থাৎ ভার্চুয়াল জগতে রিলেশনশিপ, ইনফাইডিলিটি রুলসের অভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ করে নিচ্ছে। ডিজিটাল যুগে রাতের আঁধারে স্পাউসকে ঘুমন্ত রেখে ইন্টারনেটের বিটস আর বাইটসে অন্য তৃতীয় ব‍্যক্তির সাথে রোমান্টিক সম্পর্কের স্বপ্নজাল বুনা দেহকে হাজার টুকরো করার চেয়েও বেশি পীড়াদায়ক।

ইন্টারনেটপূর্ব জমানায় রিলেশনশিপের ওয়েল এস্টাবলিস্ট রুলস ছিল সুনির্দিষ্ট। যেগুলো হাজার বছর ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পরিবাহিত হয়েছে। এই যেমন ধরুন রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী। ওখানেও রুলসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় যার সাথে এ যুগের মিল আছে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগতে বিচরণের জন্য হিউম্যান ব্রেইন কতটুকু পরিপক্ব তা ভাববার বিষয়। নতুন নিয়ম তৈরি করার সময় এখন। কারণ সাইকোলজিস্টরা বলছেন এ যুগে ব্রেকআপ কার্যকর ব্রেকআপ না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি এক্সকে ফেসবুকে ব্রেকআপ করছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন