শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকার রাজপথের অচলাবস্থা

শহরটা বড্ড বেশি জনবহুল হয়ে পড়েছে। রাস্তায় মোটরযানের গড় গতি যেখানে পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে সেখানে সুযোগ পেলেই সময় বাঁচাতে বাস ড্রাইভাররা হয়ে পড়ছে বেপরোয়া। ট্রিপ বাড়াতে পথচারী পিষে ফেলতেও বিবেকে বাঁধছে না।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজধানী ঢাকা  পৃথিবীর দশম বৃহত্তম সিটির খ্যাতি পেয়েছে বটে। কিন্তু যুগের ব্যবধানে ঢাকা সিটি দুইটি প্রশাসনিক পৃথক কর্পোরেশনে রূপান্তর ছাড়া হরিজন্টাল এক্সপেনশন বা আনুভূমিক সম্প্রসারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়েছে কি? হচ্ছে তবে তা র‍্যাপিড গতিতে যদি হতো স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়া যেত হাতিরঝিলের মেগা প্রকল্পের মত।

খবরে প্রকাশিত রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর স্মৃতি মানুষ  হয়তোবা কালের চক্রে অচিরেই ভুলে যাবে। যেমন মানুষের স্মৃতিপট থেকে হারিয়ে গেছে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি, তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাওয়া কিংবা বিচার বহির্ভূত গুম-খুনের নেপথ্যের প্রতিবাদী কন্ঠস্বরগুলো। সন্তান যারা হারিয়েছেন তারা তো কোনদিন ভুলতে পারবেন না স্বজন হারানোর বেদনা। পৃথিবীর কোন ক্ষতিপূরণ‌ই স্বান্তনার জায়গটুকুতে় আমৃত্যু আক্ষেপকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

রাষ্ট্র ও সরকার দুটো পৃথক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের কাছেই জনতা রাজপথে নিরাপদ সড়কে চলাচলের অধিকার চাইবে, খুব স্বাভাবিক। দায়িত্ব বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না। এই নিরাপত্তাটুকু নিশ্চিতের কাজ সরকারের। এখন প্রশ্ন চলে আসে সরকার কতটা দায়িত্বশীল? আদতে সরকার যোগ‍্যতা রাখে দেশের পরিবহন ব‍্যবস্থার শৃঙ্খলা বিধান করতে?

আজ ঢাকার রাজপথে স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা কেন? রাস্তায় ওদের সরব উপস্থিতি রাষ্ট্রযন্ত্রে অশনিসংকেতের ইঙ্গিত বহন করে না তো? আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে ১৮ বছরের নিচের সেই ছেলেরা রোড ব্লক করে বিচার চাইতে রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে; লিগ‍্যাল এজ এখনো পেরোয় নি যারা! দেশটা কি মগের মুল্লুক?

হরতালে পিকেটিং ছিল সরকারকে কুপোকাত করার একটি অভিনব কৌশল। ওগুলো দেখতাম রাজনৈতিক দাবিতে নির্দিষ্ট কিছু দলের ব‍্যানারে। কিন্তু এবারকার ছাত্রদের বিক্ষোভ যেন স্বতঃস্ফূর্ত; না বিরোধীদলীয়, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মোদের একটাই দাবি, "আমরা জনগণের জন্য নিরাপদ সড়ক চাই"।

সূর্যোদয় নতুন প্রজন্মের জন্য পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা নিয়ে আসুক। ঢাকাকে বাঁচাতে হবে। চারশত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজধানীকে বাসযোগ্য অবস্থায় নিয়ে আসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি নগরবাসীর। আসুন বিল্ডিং কোড (ইমারত নির্মাণ বিধিমালা) অনুসরণ করে বাড়ি বানাই, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় গাড়ি ব‍্যবহার করা থেকে বিরত থাকি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন