শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

আল্লাহর সাহায্য যেন আমি স্বচক্ষে দেখছি

"আল্লাহর সাহায্য আমি স্বচক্ষে দেখেছি।" খুব ছোটবেলায় যখন সবেমাত্র ব‌ইপড়া শিখেছি, তখন নানার ব‌ইয়ের শেলফে তাঁর সংগ্ৰহে থাকা এই শিরোনামের ব‌ইটি একদিন আমার নজর কাড়ে। স্রষ্টার ধারণা পাওয়া কচি মনে অবাক হয়ে ভাবতে থাকি নিরাকার সত্তা যিনি তিনি মানুষের জীবনে এতটা দয়ালুভাবে স্পর্শ দিতে পারেন যে ক্ষুদ্র মানবসত্তা আবার তা অনুধাবন বুঝি করতে পারে। বরাবরের মত নানাকে ব‌ইটির সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন। আশির্ধো নানা তাঁর সারা জীবনের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে আমার শিশুতোষ কৌতূহলী যৌক্তিক কি অবান্তর সব জিজ্ঞাসার নিরন্তর উত্তর দিয়ে চললেন। সেদিন হয়তোবা বিশ্বাস জন্মেছিল আল্লাহ সত্যিই মানুষের মনের ইচ্ছার প্রতি উত্তর নশ্বর ধরাধামে দিয়ে থাকেন, জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে।

নানার স্নেহের পরশ হারিয়ে শাশ্বত নিয়মে এই পৃথিবীতে যখন কোয়ার্টার লাইফ শেষে চারপাশ দেখি আপন বিচক্ষণতা দিয়ে তখন ভেবে অবাক হ‌ই আল্লাহর অতীব নিরপেক্ষ বিচার ও সুক্ষ্ম মানদণ্ডে লঘু থেকে গুরু কৃতকর্মের ন্যায্য প্রতিবিধান। মনের অজান্তেই তখন ভেসে ওঠে ছোটবেলায় জানা সেই মর্মবাণী- আল্লাহর সাহায্য যেন আমি স্বচক্ষে দেখছি। পৃথিবী অন্যায্য (unfair) হতে পারে। কিন্তু স্রষ্টা সবচাইতে উত্তম বিচারক। পাশাপাশি তিনি পরম দয়ালু ও অতীব ক্ষমাশীল। স্রষ্টার কাছে চাওয়া একটাই, মরণশীল মানুষের মনে শুভবুদ্ধির পরিচয় জাগ্ৰত করুন। দ্বন্দ্ব-বিরোধকে সহনশীলতার গুণে পাশ কাটিয়ে উঠার তৌফিক দিন, আমিন।

রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

স্বপ্নবৃক্ষ-২ (স্বরচিত কবিতা)

স্বপ্নবৃক্ষ-২

আফ্রিকার ঘন বনে লুসির প্রথম ভালবাসা
আদি মানবের মনে জাগালো আশা।
স্নায়ুর ত্রিধারায় উঠলো নেচে প্রয়োজন
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে রচিল ভবিষ‌্যতের আয়োজন।

নেমে এলো অহংকার, শিখলো সে মরতে-মারতে
আঁখিপল্লবে যে, কেমনে তারে হাতছাড়া করি দিনান্তে?
ওদিকে যে প্রাণপাখি কয় ছন্দে ছন্দে
“ছেড়ে দেরে, দেরে আমায় ছেড়ে দেরে দেরে
যেমন ছাড়া বনের পাখি মনের আনন্দে!”

লক্ষ বছর আগে গলায় ঝুলিয়ে সন্তানেরে
লাফায় লুসি বৃক্ষের ডালে আর কোটরে।
দিন যায়, মাস যায়; যায় বছর-শতাব্দী-সহস্রকাল
অস্থির জলবায়ু নিয়ে এলো লুসির কপালে আকাল।
মরুর বালুকা মরীচিকাময় ময়দান
আদি মানব হলো যে দু’পায়ে দণ্ডায়মান।
এক হাতে নিয়ে সন্তানেরে, অন‌্য হাতে ছুঁড়ে পাথর
আদি মানবীর দুর্দান্ত সাহসিকতায় যেন ভূতের আছর!

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে বসি আধুনিক প্রেয়সী
পাবো বলে জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার বাজায় সে বাঁশি।
অন্ধ, অতিমূল‌্যায়িত ভালবাসা বেঁচে থাক অনন্তকাল
 স্নায়ুর ত্রিধারায় স্পন্দন করোটিতে বয়ে যাক চিরকাল।
সেন্টিনেল আইল‌্যান্ড থেকে সেন্ট হেলেনা
জয় হোক নবপ্রেমের, যেথায় থাকুক তুলনাহীনা।

দাঁতের ব‌্যথায় মরি বলে যে রসিক!
মন দিয়ে মন পাওয়া সহজ না প্রেমিক।
হয় না মানুষ কভু এত অসহায়
নির্লিপ্ত প্রেয়সী করে যখন নিরুপায়।